Posts

শেষ জোৎস্না

Image
   শেষ জোৎস্না শেষ জোৎস্না রোকনুজ্জামান রিপন রচিত একটি বাংলা সায়েন্স ফিকশন ও ক্রাইম থ্রিলার বই। এটি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বইবন পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত হয়। বইটিতে ভবিষ্যতের মানব সভ্যতার সংকট, মহাকাশযাত্রা, প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা, খুন, এবং সমান্তরাল পৃথিবীর মতো চমকপ্রদ বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়েছে। বই পরিচিতি   লেখক: রোকনুজ্জামান রিপন ধরণ: সায়েন্স ফিকশন, ক্রাইম থ্রিলার প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০২৫ প্রকাশক: বইবন পাবলিকেশন পরিবেশক: র‍্যামন পাবলিশার্স আইএসবিএন: 978-984-95755-8-0 মূল্য: ২৫০ টাকা / ১০.০০ মার্কিন ডলার গল্পের সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রথম গল্প: অস্তিত্ব পৃথিবী ধ্বংসের পথে। মানব সভ্যতাকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে ১০০ জোড়া মানুষ এবং ১০,০০০ মানব ভ্রূণকে একটি মহাকাশযানে তুলে পাঠানো হয় মহাবিশ্বের অজানায়। তাদের একমাত্র লক্ষ্য—একটি নতুন পৃথিবী খুঁজে পাওয়া এবং মানব সভ্যতার পুনর্গঠন। পৃথিবীর মানুষরা এই মহাকাশযানের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে এক ভয়ংকর বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে যায় পৃথিবী। কিন্তু নতুন পৃথিবীর সন্ধানে রওনা দেওয়া মানুষগুলোর সামনে অপেক্ষা করছিল আরও ভয়ংকর কিছু। এক অজানা শক্তি একে এ...

পূর্ণিমা

  ওর নাম অয়ময়।অয়ময় অর্থ লৌহময়।নামের সাথে অবশ্য তার চরিত্রের খুব একটা মিল নেই।যথেষ্ট নরম মনের একজন মানুষ সে। নরম বলতে তুলতুলে মেঘ কিংবা টেডিবিয়ারের নরম গালের কথা মনে পড়ে।আর মনে পড়ে অরিত্রার কথা।অরিত্রা নামের অর্থ নাবিক।নামটা শুনলেই কেমন যেন জীবনানন্দ হতে ইচ্ছে করে,আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন, আমারে দু দন্ত শান্তি দিয়াছিলো নাটোরে বনলতা সেন।মেয়েটাও হয়তো কারো জীবন সমুদ্রের পালতোলা জাহাজের গুরুগম্ভীর নাবিক হবে। সে যাইহোক তাতে খুব বেশি ক্ষতি হওয়ার কথা নয়।কেননা মেয়েটা প্রচন্ড রকমের রুপবতি।এমন রূপবতী মেয়েরা খানিকটা অহংকারী হয়।অহংকার আর রুপ সমগোত্রীয়।অথচ এমন একটা মেয়েকে অয়ময় নিতান্তই আগ্রাহ্য করে এসেছে।চিঠি নেই,ফোনকল নেই,হটসআপ কিংবা ফেসবুক থেকেও মেয়েটাকে ব্লক করে রেখেছে।এর কারন অবশ্য অজানা।অয়ময় নিজেও জানেনা।হয়তো প্রেম পাওয়ার চেয়ে অপেক্ষা বেশি প্রিয় ওর। অরিত্রার সাথে ৫ বছর কোন যোগাযোগ ছিলনা।এর মধ্যে মেয়েটাকে স্মৃতিতে না রাখার মতো একশ একটা কারন ঘটে গেছে।অথচ কোনো এক বিচিত্র কারনে অয়ময় ভুলতে পারেনি মেয়েটাকে।এর কারণ অয়ময় তাকে ভুলতে চেয়েছিলো।কোনো কিছু ভুলতে চাওয়ার অর্থ হলো...

সায়েন্সফিকশন

Image
প্রত্যাবর্তন রোকনুজ্জামান রিপন এক. আ জকেও মেয়েটা হলুদ ড্রেস পরে এসেছে। হলুদ ড্রেসে অদ্ভুত সুন্দর লাগে তাকে ।রােজ এই সময়টায় স্কুলে যায় মেয়েটা। গত এক সপ্তাহ ধরে খােজ নেওয়ার পর মেয়েটার নাম জেনেছে মলয়। নামটাও বেশ সুন্দর রিমু । মেয়েটার আরাে একটা পরিচয় আছে।সেটা হল রিমু জহিরের বােন। জহিরের বড় চাচার মেয়ে । জহির মলয়ের সবচেয়ে কাছের বন্ধু । কাউকে ভাল লাগা যেমন একটা আপেক্ষিক ব্যাপার তেমনি ভাল লাগা থেকে হটাৎ করে ভালবেসে ফেলাও বিচিত্র কিছু নয়। মেয়েটার প্রতি মলয় বেশ খানিকটা দূর্বলতা অনুভব করে। একে ঠিক ভালবাসা বলে কিনা জানেনা মলয়। ভাল ছেলে বলতে যা বুঝায় মলয় ঠিক তেমন।কোন খারাপ সঙ্গে মেশেনা,তামাকের নেশা নেই। অমল কান্তির পর্ণ গান যেগুলাে লুকিয়ে লুকিয়ে শুনেনি এমন ছােকড়া পাওয়া বেশ দৃষ্কর। মলয় সেগুলাে শুনবার চেষ্টা পর্জন্ত করেনি কোনদিন। খারাপ জিনিসের প্রতি মানুষের একটা নিষিদ্ধ ভাল লাগা কাজ করে,জহির বেশ কয়েক বার মলয় কে অমল কান্তির ঐ খারাপ গানগুলাে শুনানাের চেষ্টা করেছ।শেষে ব্যার্থ হয়ে বলেছে;শােনা লাগবেনা কিন্তু আমি শুনেছি এ কথা কাউকে বলতে পারবেনা ।অগ্যতা তাতেই রাজি হল বেচারা। তরল...

চিঠি

Image
  চিঠি   লেখকঃরোকনুজ্জামান কা টখোট্টা রোদ।বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি ঘন্টাখানেক হল।এই যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে আমার কাছে একটা চিঠি এসেছিল,মাস চারেক আগে।চিঠিটা দেখে যতটা অবাক হয়েছিলাম, তার চেয়ে বেশি অবাক হয়েছিলাম চিঠিটা লিখেছে মোহনা নামের কেউ।চিঠিটার ভাষাগুলো এমন ছিলঃ প্রিয় অচেনা। জানিনা প্রিয় বলাটা আমার ঠিক বা ভুল কোন পর্যায়ে পড়েছে।তবুও প্রিয় সম্ভাষণ টা করলাম।চিঠি লিখতে আমার বড় ভালো লাগে।কিন্তু শব্দ খুঁজে পাইনা। শব্দরা বড্ড চতুর, আমার কলমে ওরা ধরাই দিতে চায়না।জানো,সেদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে অনেকক্ষণ দেখেছি। চোখের নিচে হটাৎ কালি পড়া শুরু করেছে।বাবা বলে আমি নাকি জগতের শ্রেষ্ঠ রূপসী। মাঝে মাঝে আমার খুব অহংকার করতে ইচ্ছে করত।কিন্তু অহংকার বুঝি আমার সাজে না। সেদিন ছিল রোববার,আমাদের বাসায় একটা চিঠি এসেছিল। খুব আনন্দ নিয়েই চিঠিটা খুলেছিলাম। বেলকনির দোলনা তে বসে পা দোলাতে দোলাতে  পড়া শুরু করেছিলাম। প্রথমেই লেখা আমার নাম।বয়স সতের।পাঠিয়েছেন ডক্টর আফজাল আংকেল। গতমাসে যে টেস্ট গুলো করিয়েছিলাম সেগুলোই।তার মাঝেই পেয়েছিলাম একটা চিঠি। চিঠিটা বাবাকে উদ্দেশ্য করে লেখা ছিল। "অনিল তোমাকে কথা...

অস্তিত্ব

Image
                              অস্তিত্ব                     লেখকঃ রোকনুজ্জামান রিপন এক , শী তল ঘরের তরল হিলিয়াম আস্তে আস্তে কমে আসছে।হিলিগ্রো মিটারের কাটা তরতর করে নেমে যাচ্ছে নিচে।অক্সিমিটারের কাটা ক্রমন্বয়ে ৩০ এর ঘর পেরিয়ে ৪০ এসে দাড়িয়েছে।আর কিছুক্ষন বাদেই জেগে উঠবে মহাকাশ যান ফিনিক্স ২৯ এর সকল যাত্রী।পৃথিবীর হিসাবে ১২০ বছর পর ঘুম ভাঙছে সবার।আরো ৭০০ বছর পর ঘুম ভাঙার কথা ছিল সবার।নিশ্চই যান্ত্রিক কোন গোলযোগ দেখা দিয়েছে যার জন্য মহাকাশ যানের কেন্দ্রীয় কম্পিউটার ক্লোরা জাগিয়ে তুলেছে সকল ঘুমান্ত যাত্রীদের।ক্যাপস্যুলের পুরু কাচের ভেতরে আস্তে আস্তে চোখের পাতা মেল্ল লিরা।একটা মিষ্টি বেলিফুলের কোমল ঘ্রাণের সাথে ভোতা এক ধরনের অবসাদ এসে ভর করেছে।মস্তিষ্কের প্রত্যেকটা নিউরনে হিমগ্লোবিনে ভর করে ছুটে চলেছে অক্সিজেন। জেগে উঠছে হাইপোথ্যালামাস।বেশ ঠান্ডা লাগছে ওর।দাতে দাত ঠুকে যাওয়ার  মত ঠান্ডা। এখনো পুরো দেহ সচল হয়ে ওঠেনি।ক্যাপসুলের পুরু মনিটরে বডি স্টুমুলেটরিতে ১০ শতাংশ ল...