সায়েন্সফিকশন
প্রত্যাবর্তন
রোকনুজ্জামান রিপন
এক.
আজকেও মেয়েটা হলুদ ড্রেস পরে এসেছে। হলুদ ড্রেসে অদ্ভুত সুন্দর লাগে তাকে ।রােজ এই সময়টায় স্কুলে যায় মেয়েটা। গত এক সপ্তাহ ধরে খােজ নেওয়ার পর মেয়েটার নাম জেনেছে মলয়। নামটাও বেশ সুন্দর রিমু। মেয়েটার আরাে একটা পরিচয় আছে।সেটা হল রিমু জহিরের বােন। জহিরের বড় চাচার মেয়ে । জহির মলয়ের সবচেয়ে কাছের বন্ধু । কাউকে ভাল লাগা যেমন একটা আপেক্ষিক ব্যাপার তেমনি ভাল লাগা থেকে হটাৎ করে ভালবেসে ফেলাও বিচিত্র কিছু নয়। মেয়েটার প্রতি মলয় বেশ খানিকটা দূর্বলতা অনুভব করে। একে ঠিক ভালবাসা বলে কিনা জানেনা মলয়। ভাল ছেলে বলতে যা বুঝায় মলয় ঠিক তেমন।কোন খারাপ সঙ্গে মেশেনা,তামাকের নেশা নেই। অমল কান্তির পর্ণ গান যেগুলাে লুকিয়ে লুকিয়ে শুনেনি এমন ছােকড়া পাওয়া বেশ দৃষ্কর। মলয় সেগুলাে শুনবার চেষ্টা পর্জন্ত করেনি কোনদিন। খারাপ জিনিসের প্রতি মানুষের একটা নিষিদ্ধ ভাল লাগা কাজ করে,জহির বেশ কয়েক বার মলয় কে অমল কান্তির ঐ খারাপ গানগুলাে শুনানাের চেষ্টা করেছ।শেষে ব্যার্থ হয়ে বলেছে;শােনা লাগবেনা কিন্তু আমি শুনেছি এ কথা কাউকে বলতে পারবেনা ।অগ্যতা তাতেই রাজি হল বেচারা।
তরল হিলিয়ামের মাধ্যমে মানুষের দেহের তাপমাত্রা শুন্যের নিচে নামিয়ে এনে দেহের সকল জৈবিক কাজ কে থামিয়ে রেখে ঘুমান্ত অবস্থায় মানুষকে সত্যি সত্যি দীর্ঘজীবি করা যায় কিনা সেটা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে চিন্তা করছে মলয় ।সত্যি সত্যি কি শীতল ঘর বানানাে সম্ভব?যেখানে মানুষ ঘুমিয়ে থাকবে হাজার হাজার বছর?গবেষণায় বেশ কিছুদুর এগিয়েও গেছে সে ।গতকাল ওর পােষা বেড়াল পুষিকে তরল হিলিয়ামের ইনজেশন দিয়ে ঘুম পড়িয়ে দিয়েছে। যদিও সে জানেনা বেড়ালটার ঘুম ভাঙবে কবে ।আদেও ঘুম ভাঙবে কিনা সেটা নিয়েও বেশ চিন্তিত্ব। মলয়ের এই মফশ্বল শহরটা খুব ভাল লাগে ।উঁচু উচু দালানের ঠাসাঠাসি নেই,খুব বেশি মানুষের ভীড় নেই,গাছে গাছে পাখি ডাকে,মাঠে মাঠে সােনালী ধান, দেখলেই কেমন মনটা ভাল হয়ে যায় মলয়ের ।সবুজ ধানের আকাবাকা আল বেয়ে এলােমেল চুলে মাঝে মাঝে রিমু যখন হেটে বেড়ায় তখন বুকের ভেতর একটা আলাদা অনুভুতি অনুভব করে সে ।সেদিন বৈশাখি মেলায় জহিরের সাথে ঘুরতে গিয়ে এক গােছা বেলােয়ারি কাচের চুরি কিনে ফেলেছে সে ।জহির সব কিছু জানে তবুও কিছু বলেনা।মলয় ছেলেটাকে ওর ভারি ভাল লাগে। চুরি গুলাে রিমুকে দেওয়ার মত সাহস এখনাে অর্জন করে উঠতে পারেনি সে । আজ দেওয়ার জন্য দাড়িয়ে আছে ।স্কুল থেকে ফিরবার পথে আজ নিশ্চয় দেবে সে ।
জহির ভাইয়ের ঐ কবি বন্ধুটা পাগল নাকি?কেমন ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকে। মানুষটা খারাপনা তবে একটু বেশি ভিতু ।রিমুর মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে লােকটার হাত ধরে বলতে
-এত ভয় পান কেন হ্যা?ভাললাগার কথাটা বলতে এত কিসের ভয়?
লােকটা তখন কি করে খুব দেখতে ইচ্ছা করে তার ।রিমু মাঝে মাঝে অদ্ভুত ধরনের একটা সপ্ন দেখে ।বিশাল এক কাশ বন দিয়ে সে হাটছে।আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে তুলতুলে মেদুর মেঘ ।সে ঠিক একা নয়,সে আর জহির ভাইয়ের সেই পাগল বন্ধুটা ।আর তাদের সাথে থাকে ৩ বছরের একটা ফুটফুটে ছেলে ।কিছুদুর হাটার পর বাচ্চাটা লােকটাকে বলে,বাবা আইসক্রিম খাব ।লােকটা তখন রিমুকে বলে;তােমার জন্যও একটা আনি?রিমু কিছু বলবার আগেই লােকটা আইসক্রিম কিনতে ব্যান্ত হয়ে পড়ে ।তখন লােকটাকে দেখতে খুব সুন্দর লাগে ।রিমুর হটাৎ ইচ্ছা করে লােকটার হাত ধরতে ।সে যখন এগিয়ে যেতে থাকে লােকটার দিকে ঠিক তখনি ঘুম ভেঙে যায় ওর ।প্রতিবার ঠিক এক সময়ে তার ঘুমটা ভেঙে যায় ।ঘুমটা ভেঙে যাওয়ার পরেও অনেক সময় চোখ বুজে স্বপ্নটা দেখার চেষ্টা করে রিমু । লােকটার নামটা যেন কি? চোখ বুজে ভাববার চেষ্টা করে সে,ও হ্যা মলয়।মলয় মানেতো বাতাস। কারাে নাম আবার বাতাস হয় নাকি?লােকটা কি জানে মলয় মানে কি?সে একদিন জিঙ্গেস করে দেখবে লোকটা জানে কিনা।আচ্ছা এই লােকটাকে কি আমার ভাল লাগে? অবশ্যই ভাল লাগে।শুধু কি ভাল লাগে নাকি তার চেয়ে বেশি কিছু? ভাবতে ভাবতে লজ্জায় মুখটা লাল হয়ে ওঠে রিমুর Iএকটা মেয়ের লজ্জা থাকতে পারে তাই বলে একজন পুরুষের এত লজ্জা হালে কি মানায়? জহিরের সাথে মাঝে মাঝে ওদের বাসার যায় মলয় ।উদ্দেশ্য থাকে রিমুকে একবার দেখার। কিন্তু রিমুকে দেখলেই লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলে ।রিমুর তখন বেশ হাসি পায়। রিমু চা দিতে গেলে কোন রকমে চা টা নিয়ে টেবিলে রাখে ।যেন গরম কড়াই থেকে তড়িঘড়ি করে জিলাপি তুলছে,যেন দেরি
করলেই হাত পুড়ে যাবে। এমন একটা মানুষকে ভাল লাগার কথা নয় ।কিন্তু কোন এক বিচিত্র কারনে লােকটাকে রিমুর খুব ভাল লাগে। স্কুল ছুটি হয়েছে ।ছেলে মেয়েরা আসতে শুরু করেছে ।মলয় হটাৎ করে খুব অসহায় অনুভব করছে ।আজো হয়তাে চুরিগুলাে দেওয়া হবেনা ।ঐ তাে আসছে রিমু একটু পরে দুরের ঐ বট গাছটার পাশ দিয়ে দৃষ্টি সিমার বাইরে চলে যাবে ।বুক থেকে একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে মলয়ের। কিন্তু মলয়কে অবাক করে দিয়ে রিমু এদিকে আসতে শুরু করেছে ।রিমু এসে একদম মলয়ের মুখােমুখি দাড়িয়েই বল্ল; মলয় মানে কি জানেন?
মলয় না সূচক দুই পাশে মাথা নাড়ল এবং ঠিক তার পরপরি উপর
নিচ মাথা নাড়িয়ে জানালাে যে সে জানে।
-আপনি কথা বলতে পারেন না?
মলয় একপাশে ঘাড় কাত করে জানালাে পারে ।
-তাহলে মাথা নাড়ছেন কেন?জানলে বলেন।
- বাতাস ।
- বাতস আবার কারাে নাম হয় নাকি?
মলয় মাটির দিকে তাকিয়ে দাড়িয়ে আছে,কোন কথা বলেনা সে ।
- আর প্রতিদিন আমার দিকে এমন ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকেন কেন? আর থাকবেননা ।বুঝতে পেরেছেন?
-হু।
- হু হু করছেন কেন?হ্যা বা না যাই একটা বলেন ।
-হ্যা।
- হাত পেছনে করে রেখেছেন কেন?হাতে আবার ফুল টুল আনেননি তাে?
মলয় এবার অপ্রস্তুত হয়ে বল্ল,না না তেমন কিছু নয়।
- তাহলে কেমন কিছু?দেখি হাতে কি?
মলয় ইতস্থত করতে করতে চুরি সহ হাতটা বের করে নিয়ে আসলাে।মেয়েটা হয়তাে আরাে কিছু কথা শুনিয়ে দেবে।শক্ত কিছু কথা শুনবার প্রস্তুতি নিতে থাকে সে ।কিন্তু মলয়কে অবাক করে দিয়ে রিমু বল্ল:বাহ!কি সুন্দর। আমার জন্য এনেছেন ?পরিয়ে দিন তাে।
মলয় কি করবে বুঝতে পারেনা ।অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে রিমুর দিকে।
-:কি হল পরিয়ে দেন।
-:জ্বি?
- জ্বি জ্বি করছেন কেন? বুঝতে পারছেননা?আমিতাে উর্দুতে বলিনি ।
মলয় আর কথা না বাড়িয়ে আস্তে আস্তে পরিয়ে দিল ।এই মেয়ের সাথে কথা বাড়ালেই বিপদ ।মেয়েটা ভারি অদ্ভুত। মনে যাই আসে তাই বলে দেয় ।এমন কারাে সাথে কথা বলা বেশ বিপদ জনক ।আমরা আমাদের আমিকে লুকিয়ে রাখি ।তাই কোন কথা বলার আগে ভাবতে হয় এটা বলা ঠিক হবে কিনা।সবাই মিথ্যা আমির অভিনয় করি ।যার অভিনয় যত ভাল,সে তত ভাল মানুষ।যারা মনের কথা লুকাতে পারেনা তারা অভিনয়ে কাচা।এদের সাথে কথা বলতে হয় ভয়ে ভয়ে ।তা না হলে আসল আমিটা বেরিয়ে আসে জনসম্মুখে ।মলয় বুঝতে পারেনা এই মেয়েটা তাকে পছন্দ করে কিনা।
" শেষ পর্জন্ত গবেষণাটা তবে কি ব্যার্থ হল ?সেটাতাে হওয়ার কথা নয়।জলজ্যান্ত পুষিকে ও ঘুম পড়িয়ে রেখেছে । "
তরল হিলিয়ামের সাথে কোল্ড ফসফরাসের বিক্রিয়ায় একটা ঘন আঠালো ধরনের তরল পদার্থের সৃষ্টি হয়েছে।মলয় বুঝতে পারছেনা তরলটা বর্ণহীন হল কেন। শেষ পর্জন্ত গবেষণাটা তবে কি ব্যার্থ হল ?সেটাতাে হওয়ার কথা নয়।জলজ্যান্ত পুষিকে ও ঘুম পড়িয়ে রেখেছে । আর আজ এত দুর এসে কিনা ব্যার্থ! মনটা বেজয় খারাপ হয়ে যায় ওর ।কোল্ড ফসফরাসের ফেল্টে ইউক্যাম উদ্ভিদের নির্জাস নিলে মানুষের নার্ভ গুলাে শীথিল হয়ে পড়ে।তার সাথে তরল হিলিয়ামে মানুষের দেহের তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির নিচে নামিয়ে ফেলে ।সকল জৈবিক ব্যাপার থেকে তখন দেহকে মুক্তি দেওয়া হবে ।দেহের কোন খাদ্যের আর প্রয়ােজন হবেনা।সেখানে তরলটার রং হওয়ার কথা ছিল গােলাপি। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে তরলটার রং হয়েছে বর্ণহীন ।মাথার সামনের,পাশটা টিপ টিপ করে যন্ত্রনা শুরু হয়েছে তার। এখন আর কিছুই ভাবতে ইচ্ছা করছেনা।জানালার পাশের থাকার উপর টেস্টটিউবটা রেখে শুয়ে পড়লাে মলয় ।জানালার কার্নিশের ফুটো দিয়ে রােদ এসে পড়ছে টেস্টটিউবের উপর ।মলয় ক্লান্ত চোখে তাকিয়ে আছে সে দিকে।কোথায় যেন একটা অস্বস্তি অনুভব করছে তা ঠিক ধরতে পারছেনা।আন্তে আন্তে ক্লান্তিতে চোখ দুটো বুজে আসতে চাইছে।মাথার ভেতরে একটা সুক্ষ্ম আনান্দ দায়ক ব্যাথা অনুভব করছে।কেমন যেন একটা মাদকতায় চোখ দুটো ভারি হয়ে আসতে চাইছে ।খােলা জানালা দিয়ে হু হু করে বাতাস দিচ্ছে ।সেই বাতাসে ভেসে আসছে মিষ্টি একটা গন্ধ।সব মিলিয়ের বেশ লাগছে গন্ধটা। হটাৎ করে হাতটা তুলে মাথায় রাখতে গিয়ে মনে হল হাতটা যেন তার নিজের নয়।এ যেন অন্য কারাের হাত ।তার মনের ইচ্ছায় যেন সে হাত আর নড়ে না।ক্রমই তার সর্ব শরিল বেশ একটা আরাম দায়ক অবশাধে যেন অবশ হয়ে আসতে চাইছে। যেন কোন কিছুতেই তার আর কিছুই যায় আসে না।একবার মনে হল এইবেলা উঠে গিয়ে জানালাটা বন্ধ করে দেয় ।কিন্তু কিছুতেই উঠে যেতে শরিল সায় দিচ্ছেনা ।মলয়ের উদভ্রান্ত দৃষ্টি হটাৎ আটকে যায় ঘন থকথকে বর্ণহীন টেস্টটিউবের উপর ।দূর্বল চোখে মলয় দেখলাে টেস্টটিউবের উপরে সাদা ধােঁয়া উঠছে।কোন্ড ফসফরাসে রােদ লেগে কোন্ড ডেসট্রয় হয়ে গরম হয়ে উঠেছে।সেই গরমে ভেতরের তরল বাষ্প হয়ে সমস্ত ঘর আচ্ছাদিত করে ফেলছে। মলয় বুঝতে পারছে কি ঘটতে চলেছে ।কিন্তু এখন আর কিছু করার নেই কিচ্ছু ভাববারও নেই।ও বড় ক্লান্ত।ওর কাজ যেন সাঙ্গ হল ।মস্তিষ্কের প্রতিটা নিউরন জানান দিচ্ছে এবার তার বিশ্রাম নেওয়ার সময় হয়েছে।গভীর ক্লান্তিতে চোখ দুটো ততক্ষনে বুজে এসেছে ।এখন আর কোন কিছুতেই তার কিছু যায় আসেনা ।মলয় গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল ।
দুই.
মলয়ের ঘুম ভাংলাে বেশ দেরিতে ।গাছে গাছে পাখির কিচির মিচির শব্দ ঝিরঝিরি বাতাস কেমন যেন ক্লান্তি দূর করে দেয়।সকালের হালকা তেজি রােদ এসে পড়েছে তার মুখে ।পৃথিবীতে এর চেয়ে শান্তির আর কি হতে পারে?এর চেয়ে বেশি কিছু চায়নি কখনাে সে। না চেয়েছে।গভীর ভাবেই তাে চেয়েছে ।রিমুকে সে যথার্থ অন্তর দিয়েই চেয়েছে। হয়তাে ওকে বুঝতে পারেনা বলেই এত গভীর ভাবে চাওয়া ।মানুষ যাকে বুঝতে পারেনা তাকেই চায়। রিমু হয়তাে এতক্ষন স্কুলে চলে গেছে। ভাবতেই তড়াক করে লাফিয়ে ওঠে সে । কিন্তু এরপর যেটা ঘটল তার জন্য প্রস্তুত ছিলনা মলয় ।সে শুয়ে আছে একটা পোড়া বাড়িতে।মাথার উপরের ছাদ খসে পড়েছে ।কোথাও ইট খুলে পড়েছে ।এখানে সেখানে গজিয়েছে বুনাে লতা ।বট গাছের শেকড়ে ওর দুই হাত আটকে আছে।তার ঠিক পাশেই ওর পােষা বিড়াল পুষি ওর দিকে কেমন ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে গর গর আওয়াজ করছে ।পুষি যেন ওকে চিনতেই পারছেনা। আশেপাশে কেউ নেই ।মলয় এবার সত্যি ভয় পেল ।এক রাতের মধ্যে এ সে কোথায় এসে পড়েছে? কোথায় তার সেই সাজানাে ঘর,সম্মুখের বেলকুনি?এক রাতে যেন পাল্টে গেছে সব কিছু । এটা কি সে স্বপ্ন দেখছে? তাও বা কি করে সম্ভব,ঐ তাে ও স্পষ্ট দেখছে ভাঙা দেওয়ালটার মাথায় একটা শালিক এসে বসেছে।ঐ তাে আরো দুটো।এগুলাে সব কি মিথ্যা?হটাৎ অজানা শঙ্খায় বুকটা কেমন যেন করে উঠলাে ।পুষি এতক্ষনে তাকে চিনতে পেরে ওর কোলের মধ্যে গুটিয়ে বসে মিউ করে ডেকে উঠলাে ।পুষি কে কোলে নিয়ে আবর্জার স্তুপ থেকে বেরিয়ে এলাে সে ।সূর্যটা তখন প্রায় খাড়া হওয়া শুরু করেছে।হটাৎ খুব করে রিমুর কথা মনে পড়লাে ।ও খেয়াল করেছে যখন বড় রকমের কোন চিন্তা এসে ভর করে তখন তার রিমুর কথা মনে পড়ে ।মলয় স্কুলের পথে পা বাড়ালাে। হটাৎ ও আবিষ্কার করল সে যেন কিছুই চিনতে পারছেনা।পথের মাঝখানে বড় বড় গাছ। যেন বহুদিন কেউ এ পথ মাড়ায়নি ।চারিদিকে সব কেমন অচেনা। এ যেন তার সেই চেনা পৃথিবী নয়।ভুল করে সে এসে পড়েছে অন্য কোন দেশে ।অন্য কোন জগতে ।তাই বা যদি হবে, তবে সামনের আধমরা দিঘীটার পাশে চির চেনা গাজীদের সেই তেতুল গাছটা সে কিভাবে দেখছে ?এক রাতের ব্যাবধানে চারিদিকে এ কেমন থমথমে বৈরি আদিমতা বিরাজ করছে ?সে কি তাহলে পাগল হয়ে যাচ্ছে? দূর্ভেদ্য বােন জঙ্গল পেরিয়ে এক সময় সে রান্তায় এসে উঠলাে কিন্তু এ সে কি দেখছে,কোথায় সে মফস্বল শহর?চারদিকে মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে বড় বড় ইমারত ।অসজ্য যানবাহনের শব্দে ভারি হয়ে আছে সমস্ত নগরী। এসব দেখে পুষি তার কোলের মধ্যে চুপ করে বসে আছে। এ কোন ভাবেই তার সবুজ শ্যামল সেই মফস্বল হতে পারেনা ।কোন ভাবেই না ।আরেকটু সামনে এগুতেই চোখে পড়লাে ব্রিজটা ।আরেকটু এগুলেই স্কুলটা থাকার কথা ।মলয় ছুটতে শুরু করলাে ।সমস্ত মনে প্রাণে চাইলাে যেন স্কুলটাকে দেখতে পায় ।সে বুঝতে পারে কৌতুহলী মানুষ অদ্ভুত ভাবে তার দিকে তাকিয়ে আছে।কিন্তু সেদিকে তাকানাের ফুসরত নেই তার।যে কোন মূল্যেই প্রমান করতে হবে সে যেটা দেখছে সেটা ঠিক নয় ।
এখন সে দাড়িয়ে আছে চারদিকে সব আকাশচুম্বি অট্টলিকার মধ্যিখানে,সাদা সাদা ইউনিফর্ম পরা ছেলে মেয়েরা এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে ,তাদের মধ্যে রিমু নেই। এদের কাউকে চেনেনা সে ।বড় বড় সােনালী অক্ষরে লেখা স্কুলের নামটা দেখে ও রিতিমত চমকে উঠলাে।"চাম্পাফুল আপ্রচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়" তার চির চেনা সেই স্কুলের একি অবস্থা?কোথায় গেল সেই চম্পাফুল গাছ? তার জায়গায় মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে বিশাল একটা দালান ।সেই আম গাছ,ফুলের বাগান তার কিছুই আর অবশিষ্ট নেই । মলয়ের হটাৎ জহিরের কথা মনে পড়লাে ।জহির নিশ্চই বলতে পারবে এসব কি হচ্ছে।সূর্যটা ততক্ষনে পশ্চিমে হেলে পড়েছে ।মলয় হাটছে জহিরের বাড়ির দিকে ।এখানে তাে থাকার কথা।কিন্তু সে ঘন্টা খানেক ঘুরেও চিনতে পারলনা জহিরদের বাড়ি কোনটা। সে বহুবার এসেছে এখানে ।তবুও সব যেন অচেনা। হাত দশেক দূরে একজন বৃদ্ধ বসে আছে।মলয় অবাক হয়ে দেখলাে লােকটা অমল কান্তির সেই নােংরা গান শুনছে।বেলকুনিতে বসে বছর দশেকের একটা ছেলে গলা চড়িয়ে কবিতা আবৃত্তি করছে ।মিহি গলায় অনবরত বলে চলেছে;
চিত্রার বুকে ঐ কচুরির দল
ঘােলা জলে ভেসে চলে একা অবিরল ।
শানবাধা ঘাট খানি নেমে গেছ জলে
শ্যাওলাতে ভরে আছে তার সব তলে।
মলয়ের আবার অবাক হওয়ার পালা ।এটা তার কবিতা ।ওর নিজের লেখা।গতবার নড়াইল ঘুরতে গিয়ে চিত্রা নদীর পাড়ে এক শান বাধানাে ঘাটে বসে এই কবিতাটা লিখেছিল সে Iএই বাচ্চাটা সে কবিতা পেল কোথায়? ও এবার বৃদ্ধাটার দিকে এগিয়ে গেল ।লােকটার বয়স ৮০র কোটায় ঠেকেছে হয়তাে ।মুখ ভর্তি লম্বা সাদা দাড়ি ।মাথার চুল পাকতে আর একটাও অবশিষ্ট নেই ।চোখে চশমার ঘােলা কাচ দেখে দৃষ্টি শক্তির কথা বেশ অনুমান করা য়ায় ।কানেও হয়তাে ঠিকঠাক শােনেনা ।তবুও দিব্যি নির্লজ্জের মত নােংরা গানগুলাে শুনে যাচ্ছে। কেউ তাতে কর্ণপাত করছে বলে মনে হলনা। মলয় লােকটাকে জিঙ্গেস করল ;চাচা মিয়া এখানে জহিরদের বাড়িটা কোথায় একটু বলবেন?
বৃদ্ধা এবার চট করে তাকালাে মলয়ের দিকে ।তার সে ঘােলা চোখে বিস্ময়,বিরক্তি আর রাগের একটা মিশ্র দৃষ্টি ঘুরে বেড়াচ্ছে ।যেন মলয়ের কথা শুনে বৃদ্ধ বেশ অবাক হয়েছেন।এতটা অবাক যে রিতিমত রেগে একাকার অবস্থা ।মলয় বুঝতে পারেনা সে রাগের কথা কি বল্ল। মলয় আবার জিঙ্গেস করল ; কি হল চাচা মিয়া জহিরদের বাড়িটা........
মলয়ের কথা শেষ হওয়ার আগেই বৃদ্ধ তার শ্বাস ওঠা হফানি রুগিদের মত গলায় বল্ল;এই মিয়া এয়ারকি করাে?আমার কাছে এসে আমার বাড়ি কোনটা জিঙ্গেস করছে।আর এই মিয়া আমারে যে ছােকড়াদের মত চাচা চাচা করে ডাকছাে তােমার লজ্জা লাগেনা? বলে দম নেওয়ার জন্য একটু থামলাে। মলয় কিছুতেই বুঝতে পারেনা একজন বৃদ্ধকে চাচা বল্লে লজ্জা পেতে হবে কেন ।বৃদ্ধ আবার বলতে শুরু করল;এই ৮০ বছরের বুড়া ঢং করে আমারে কিনা চাচা বলে ডাকছে ।নিজের দিকে একবার তাকিয়ে দেখেছে তােমার আর আমার বয়সের পার্থক্য কতটুকু ।তােমাকে দেখলে তাে মনে হচ্ছ জংলি ভুত কোথাকার । মলয় এবার নিজের মুখে হাত দিয়ে চমকে উঠলাে তার সারা মুখ ভর্তি লম্বা লম্বা সাদা দাড়ি ।বেলকুনি থেকে তখনাে ছেলেটার গলা শোনা যাচ্ছিল।ছেলেটা এবার কবি পরিচিতি পড়ছে;
"তরুন কবি মলয় চৌধুরীর জন্ম ১৯৯৮ সালের ৫ই জানুয়ারি ।তিনি মাত্র ২০ বছর বয়সে ২০১৯ সালের ৩ জুন নিজ বাস ভবন থেকে উধাও হয়ে যান ।তার খােজ আর মেলেনি ।তিনি চাম্পাফুল আপ্রচ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন।"এ পর্জন্ত পড়ে ছেলেটা থেমে গলা চড়িয়ে বৃদ্ধাকে বল্ল,দাদা এই কবি নাকি আমাদের স্কুলে পড়তাে ?বৃদ্ধা এবার গর্বিত ভঙ্গিতে বল্ল -হ্যা রে।মলয় আমর খুব কাছের বন্ধু ছিল ।তারপর কেমন উদাস ভঙ্গিতে বিড়বিড় করে বল্ল;কোথায় যে হারিয়ে গেল আর খুজে পেলামনা ।শেষের দিকে লােকটার গলাটা কেমন কেপে উঠলাে চোখদুটো ভরে গেল পানিতে ।তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলাে ।মলয় বুঝতে পারে এই বৃদ্ধ তার প্রিয় বন্ধু জহির।মলয় জহিরের কাধ ছুয়ে আন্তে আস্তে বল্ল,চিনতে পারছিস আমি মলয়?বৃদ্ধ তার ঘােলা চোখে মলয়ের দিকে চাইলাে Iএকদৃষ্টিতে বহুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাে।যেন স্মৃতি হাতড়ে খুজে পেতে চাইছে প্রিয় বন্ধুর মুখ তরপর হটাৎ চিনতে পেরে বৃদ্ধ কেদে উঠে মলয়কে জড়িয়ে ধরলাে ।৫০ বছর পর প্রানের বন্ধুকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে বৃদ্ধর কান্না যেন আর থামেনা।এ মিলন যে বড় কষ্টের বড় বেদনার ।বার্ধক্য আজ গ্রাস করেছে তাদের ।বৃদ্ধ তার শ্বাস ওঠা হফানি রুগিদের মত গলায় আবার বল্ল; কোথায় ছিলি এতদিন?কোথায় না খুজেছি তােকে।সেই এলি কিন্তু এত বছর পরে? মলয় বৃদ্ধাকে সব কথা খুলে বল্ল ।ওর গবেষণা সফল হয়েছে,কিন্তু জীবন থেকে হারিয়ে গেল পঞ্চাশটা বছর ।সে এক ঘুমে পার করেছে ৫০ বছর ।
মলয় এবার একটু ধাতস্থ হয়ে বল্ল;সে না হয় বুঝলাম তবে তুই এই নােংরা গানগুলাে শুনছিস কেন?লােকে শুনলে কি বলবে? মলয়ের কথা শুনে বৃদ্ধ এবার হাে হা করে হেসে তার শ্বাস ওঠা হফানি রুগিদের মত গলায় বল্ল ;নােংরা কোথায় দেখলি এটাতাে পুরােনাে দিনের গান ।পৃথিবী আর তেমন নেই রে সব বদলে গেছে Iএখনকার গান শুনলে তুই কানে আঙ্গুল দিবি রে। মলয় অবাক হয়ে যায় সভ্যতার সাথে সাথে কি সাংস্কৃতি ও বদলে যায়?ভেবে পায়না সে । জহির বল্ল থাকবিতাে আমার সাথে?আবার হরিয়ে যাবিনাতাে? মলয় বিষন্ন ভাবে একটু হাসে ।বুড়াে আবার ব্যান্ত হয়ে পড়ে,হাক ছেড়ে বলে;এই ভাত দিয়ে যা ।কিন্তু কেউ এলনা।বুড়াে আরাে জোরে চেচিয়ে বল্ল,কি হল কানে যায়না?
অগ্নিমুর্তি হয়ে বাড়ির ভেতর থেকে বছর পচিশ বয়সের একটা বৌ বেরিয়ে এলাে । কি হয়েছে?চেচাচ্ছেন কেন?
জহির মলয়কে দেখিয়ে বল্ল আমার বন্ধু মলয় ।আজ থেকে এখানে থাকবে। শুনে বউটা রেগে গিয়ে বল্ল:তােমার নিজের থাকার কথা চিন্তা করাে খাচ্ছ তাে ছেলের ঘাড়ে বসে ।তাতে আবার এই ফকিরটা নাকি থাকবে।ওসব হবেনা বলে দিলাম ।বলেই বৌটা গট গট করে চলে গেল । জহির চেচিয়ে বল্ল; ও এ বাড়িতে থাকবে ।আমিও দেখবাে কে কি বলে।জহিরকে কেমন অসহায়ের মত লাগছে Iসেই আত্ন অহংকারি,দুরান্ত ছেলেটাকে সময় আজ কত নির্মম ভাবে অসহায় করে ফেলেছে । বয়স বাড়লে বুঝি সবাই এমন অবহেলার পাত্র হয়ে যায় ।জহিরের জন্য মলয়ের মনটা হটাৎ খারাপ হয়ে যায় ।তার খুব জানতে ইচ্ছা করে রিমুর কথা ।তার ও কি এমন বিড়ম্বনায় গ্রাস করেছে? অনেক জড়তা অনেক সংকোচ উপেক্ষা করে আমতা আমতা করে সে বল্ল; রিমু! রিমু কেমন আছে রে ? বৃদ্ধর মুখের আলােটা যেন হটাৎ করে নিভে গেল ।সেখানে ফুটে উঠেছে গভীর বেদনার চিহ্ন ।তারপর শুনতে না পাওয়ার মত প্রায় বিড়বিড় করে বল্ল,কংকাল সার বুড়িটার কপালে সুখ জোটেনি ।আমার মত সে ও মৃত্যুর অপেক্ষায় আছে ।বলতে বলতে বুড়াে আবার উদাশীন হয়ে পড়লাে।মলয় বল্ল; কোথায় আছে ও?জহির চোখ বুজে ঝিমুচ্ছিলো।এবার মলয়ের হাত ধরে বল্ল; চল ।
মলয় এখন যাকে দেখছে সে যৌবনের সেই উচ্ছলা তরুনি নয়। কংকালসার এক বুড়ি ।তার নিটল ত্বকে বার্ধক্যের রেখা স্পষ্ট ।মাথা ভর্তি এলাে চুল গুলাে আজ সনের দড়ির মত সাদা।সেই হরিণীর মত নয়ণ দুটিতে আজ মৃত্যুর আবছায়া খেলা করে। জহির গলা চড়িয়ে রিমুকে বলে,চিনতে পারছিস?
রিমু ঘােলা চোখে তাকায় ।উদভ্রান্ত ভঙ্গিতে বলে;কে?
- আমাদের মলয় ।তাের সে কবি ।দেখ ফিরে এসেছে।
মলয় লক্ষ করল মৃত চোখ দুটি হটাৎ জ্বলে উঠলাে ।দাতহীন মুখে ফুটে উঠলাে বিভৎস একটা হাসি ।সে হাসিটার কতকটা লজ্জা ছড়িয়ে পড়েছে সমন্ত মুখে ।উষ্ক খুষ্ক গালদুটো হটাৎ লাল হয়ে উঠেছে। তারপর উঠে ঘরের ভেতরে চলে গেল বুড়ি ।মলয়ের বুক ভেঙে একটা চাপা কান্না উঠে আসতে চাইলাে।মনে হল পৃথিবীতে তার মত অসহায় নেই কেউ আর ।ঘর থেকে বেরিয়ে এলাে রিমু ।তার হাত ভর্তি বেলােয়ারি কাচের চুরি।মলয় চিনতে পারে ,এ চুরি মলয় তাকে দিয়েছিল। কাপা কাপা গলে,দাতহীন মুখে রিমু বল্ল; আমার পরে রাগ করিছিলেন? ঐ দিন আপনারে মজা করে বলেছিলাম ও কথা গুলাে ।তাই বলে এতােবড় শাস্তি দিলেন?বুড়ি কাদছে ।শ্রীহীন মুখের সে কান্না দেখে একটা কিশােরির ছবি বার বার ভেসে উঠছে মনে। ভাবতেই কষ্ট লাগে সেই সদাহাস্য মেয়েটা আজ নির্লিপ্ত এক বৃদ্ধা ।চোখদুটো জলে ভরে ওঠে মলয়ের ।মুখ ঘুরিয়ে নেয় সে ।তার অশ্রুটা কাউকে দেখতে দিতে চায়না সে। নিজেকে সামলে আবার বুড়ি বলতে শুরু করল;৫০টা বছর লাগল সেই রাগ ভাঙতে?আমি যে এই একগােছা চুরি আগলে বেচে আছি ।তার মূল্য যে কউ দিলনা ।কেন পরিয়েছিলেন এ চুরি ।একটা একটা করে দিন কেটেছে আর আমি ভেবেছি এই বুঝি এলেন ।অপেক্ষার প্রহর যে কতটা কষ্টের আপনি কি জানেন ?যখন আকাশ কালাে করে মেঘ জমতাে আমি ভাবতাম আপনি এসে বলবেন:চলাে বৃষ্টিতে ভিজি ।আপনি আসেননি ।আর আজ যখন এলেন তখন আমার প্রতিক্ষার অবশান হয়েছে । হটাৎ কথা আটকে পড়ে গেল বুড়ি ।বুড়ির শ্বাস উঠেছে।আশপাশের কয়েকটা মেয়ে এসে ধরেছে। বুড়িকে ।হয়তাে এ শেষ সময়টার জন্য বেচে ছিল বুড়িটা ।রিমু হাতটা বাড়িয়ে দিল মলয়ের দিকে ।সবাই বলছে আহ্ মৃত্যুর যন্ত্রনায় বুড়ি হাত বাড়িয়েছে ।কিন্তু মলয় জানে ও হাত কি চায় ।মলয় ভীড় ঠেলে বেরিয়ে এলাে,তার খুব ইচ্ছা করে রিমুর বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা একবার ধরতে। একবার বলতে,আমি তােমায় ভালবাসি,যথার্থ ভালই বেসেছিলাম তােমায় ।কিন্তু আর বলা হয়না ।বাড়ির মধ্যে থেকে কান্নার আওয়াজ ভেসে এলাে।মলয় বিড় বিড় করে বলে;তুমি যাও।ওখানে অপেক্ষা করাে আমি আসছি ।
পরিশিষ্ট:লম্বা লম্বা সাদা দাড়ি ওয়ালা একটা পাগলকে শহরের পথ ছেড়ে নির্জন গ্রামের রাস্তা ধরে চলে যেতে দেখেছিল অনেকে। তার কোলে ছিল এটা বিড়াল ।পাগলটা তাকে পুষি বলে ডাকছিল ।

Comments
Post a Comment