Posts

Showing posts from January, 2021

চিঠি

Image
  চিঠি   লেখকঃরোকনুজ্জামান কা টখোট্টা রোদ।বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি ঘন্টাখানেক হল।এই যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে আমার কাছে একটা চিঠি এসেছিল,মাস চারেক আগে।চিঠিটা দেখে যতটা অবাক হয়েছিলাম, তার চেয়ে বেশি অবাক হয়েছিলাম চিঠিটা লিখেছে মোহনা নামের কেউ।চিঠিটার ভাষাগুলো এমন ছিলঃ প্রিয় অচেনা। জানিনা প্রিয় বলাটা আমার ঠিক বা ভুল কোন পর্যায়ে পড়েছে।তবুও প্রিয় সম্ভাষণ টা করলাম।চিঠি লিখতে আমার বড় ভালো লাগে।কিন্তু শব্দ খুঁজে পাইনা। শব্দরা বড্ড চতুর, আমার কলমে ওরা ধরাই দিতে চায়না।জানো,সেদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে অনেকক্ষণ দেখেছি। চোখের নিচে হটাৎ কালি পড়া শুরু করেছে।বাবা বলে আমি নাকি জগতের শ্রেষ্ঠ রূপসী। মাঝে মাঝে আমার খুব অহংকার করতে ইচ্ছে করত।কিন্তু অহংকার বুঝি আমার সাজে না। সেদিন ছিল রোববার,আমাদের বাসায় একটা চিঠি এসেছিল। খুব আনন্দ নিয়েই চিঠিটা খুলেছিলাম। বেলকনির দোলনা তে বসে পা দোলাতে দোলাতে  পড়া শুরু করেছিলাম। প্রথমেই লেখা আমার নাম।বয়স সতের।পাঠিয়েছেন ডক্টর আফজাল আংকেল। গতমাসে যে টেস্ট গুলো করিয়েছিলাম সেগুলোই।তার মাঝেই পেয়েছিলাম একটা চিঠি। চিঠিটা বাবাকে উদ্দেশ্য করে লেখা ছিল। "অনিল তোমাকে কথা...

অস্তিত্ব

Image
                              অস্তিত্ব                     লেখকঃ রোকনুজ্জামান রিপন এক , শী তল ঘরের তরল হিলিয়াম আস্তে আস্তে কমে আসছে।হিলিগ্রো মিটারের কাটা তরতর করে নেমে যাচ্ছে নিচে।অক্সিমিটারের কাটা ক্রমন্বয়ে ৩০ এর ঘর পেরিয়ে ৪০ এসে দাড়িয়েছে।আর কিছুক্ষন বাদেই জেগে উঠবে মহাকাশ যান ফিনিক্স ২৯ এর সকল যাত্রী।পৃথিবীর হিসাবে ১২০ বছর পর ঘুম ভাঙছে সবার।আরো ৭০০ বছর পর ঘুম ভাঙার কথা ছিল সবার।নিশ্চই যান্ত্রিক কোন গোলযোগ দেখা দিয়েছে যার জন্য মহাকাশ যানের কেন্দ্রীয় কম্পিউটার ক্লোরা জাগিয়ে তুলেছে সকল ঘুমান্ত যাত্রীদের।ক্যাপস্যুলের পুরু কাচের ভেতরে আস্তে আস্তে চোখের পাতা মেল্ল লিরা।একটা মিষ্টি বেলিফুলের কোমল ঘ্রাণের সাথে ভোতা এক ধরনের অবসাদ এসে ভর করেছে।মস্তিষ্কের প্রত্যেকটা নিউরনে হিমগ্লোবিনে ভর করে ছুটে চলেছে অক্সিজেন। জেগে উঠছে হাইপোথ্যালামাস।বেশ ঠান্ডা লাগছে ওর।দাতে দাত ঠুকে যাওয়ার  মত ঠান্ডা। এখনো পুরো দেহ সচল হয়ে ওঠেনি।ক্যাপসুলের পুরু মনিটরে বডি স্টুমুলেটরিতে ১০ শতাংশ ল...

অগাধ ভালোবাসা

Image
                            অগাধ ভালোবাসা লেখকঃশিরিন আফরোজ (ফার্মেসি ডিপার্টমেন্ট মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি)    বে লা পৌনে বারোটা বাজতে চললো,কিন্তু বাইরে ছিটেফোঁটা রোদ টুকু ও নেই।তীব্র কুয়াশায় ঢেকে আছে চারপাশ। এই কনকনে শীতের মধ্যেই গায়ে পাতলা একটা চাদর জড়িয়ে বের হয়ে গেলো নিশাত। মেয়েটা বড্ড বেশী আলসে,লেপ মুড়িয়ে নিজের খাটেই হয়তোবা সে ঘুমিয়ে থাকতো অথবা মায়ের বকুনি শুনে আধো ঘুমে উঠে চোখ কচলাতে কচলাতে মায়ের হাতের বানানো গরম ধোঁয়া উঠা এক কাপ চা খেতে খেতে বারান্দায় পায়চারি করত এই সময়টাতে।কিন্তু আজ এসব কিছুই হলোনা। খুব তাড়াহুড়ো করে ঘুম থেকে উঠেই সে বেরিয়ে গেলো।আজকে খুব জরুরী একটা কাজ তার। বাস স্ট্যান্ডে এসে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে কাঙ্খিত বাসে উঠে পড়লো নিশাত। গন্তব্য পৌছানোর পর দেখলো একজন সুদর্শন লোক দুরে একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। তার সাথে দেখা করাটাই আজকের দিনে সবচেয়ে জরুরী কাজ ছিলো। নিশাতের চিনতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়।ওই মুখ তার জন্মান্তরের চেনা। কি এক অপূর্ণ মায়া ঘুরে ফেরে ঐ মুখে।কিছুদূর এগিয়ে গিয়েই নি...